Hello,

একটি ফ্রি একাউন্ট খোলার মাধ্যমে বই প্রেমীদের দুনিয়ায় প্রবেস করুন..🌡️

Welcome Back,

অনুগ্রহ করে আপনার একাউন্টি লগইন করুন

Forgot Password,

আপনার পাসওয়ার্ড হারিয়েছেন? আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন. আপনি একটি লিঙ্ক পাবেন এবং ইমেলের মাধ্যমে একটি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করবেন।

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

বই প্রেমীদের দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

এমন হলে ব্যাপারটা কেমন হয়? বাংলা ভাষা-ভাষি সকল লেখক এবং পাঠকগণ একই যায়গায় থাকবে এবং একই প্লাটফর্মে তাদের বই সম্পর্কিত অনুভূতিগুলো শেয়ার করবে। যেখানে শুধুমাত্র বই সম্পর্কিত আলোচনা হবে। কখন কোন বই প্রকাশিত হয়েছে বা হবে তা মুহুর্তেই বই প্রেমিরা জানতে পারবে। প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই আপনি বই পড়তে অনেক ভালোবাসেন। আপনার লেখা বইয়ে রিভিউ গুলো খুবই সুন্দর, তাই পড়তে অনেক ভালো লাগে। বাংলাদেশে এই প্রথম পাঠকদের জন্য "বাংলাদেশ পাঠক ফোরাম" তৈরি করেছে boiinfo.com নামে চমৎকার একটি কমিউনিটি ওয়েবসাইট। এখানে আপনি আপনার বই সম্পর্কিত অনুভূতিগুলো ছড়িয়ে দিতে পারেন লাখো পাঠকের কাছে। এই ওয়েবসাইটের কি কি সুবিধা রয়েছে? এখানে খুব সহজেই অর্থাৎ শুধুমাত্র একটি ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ফ্রিতে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি হয়ে যেতে পারেন বইইনফো.কম এর একজন সম্মানিত লেখক। ১. থাকছে ফেসবুকের মত চমৎকার একটি প্রোফাইল। ২. একজন পাঠক অপরজনকে মেসেজ করার সুবিধা ৩. প্রিয়ো ক্যাটাগরি, লেখক, পাঠক, অথবা ট্যাগ ফলো দিয়ে রাখলেই ঐ সম্পর্কিত বইয়ের নটিফিকেসন। ৪. বই রিলেটেড বেশি বেশি আর্টিকেল লিখে এবং বই সম্পর্কিত প্রশ্ন করে জিতে নেয়া যাবে পয়েন্টস, স্পেশাল ব্যাজ এবং আকর্ষণীয় বই উপহার। ৫. যারা নিয়মিত পাঠক তাদের জন্য থাকছে ভেরিফাইড প্রোফাইল সহ আরো অনেক কিছু! বইইনফো.কম এর উদ্দেশ্য হলো বাংলা ভাষাভাষী সকল লেখক ও পাঠকদের কে একত্রিত করা। 💕লাইফ টাইম মেম্বার সিপ 💕কোন ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি নেই ♂️রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করুন মোট দুটি ধাপে। ১. সংক্ষিপ্ত তথ্য ও ইমেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ করুন। ২. ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। তাই দেরি না করে এখনি চলে আসুন বইয়ের দুনিয়ায়, আমরা তৈরি করতে চাই বই পাঠকের এক নতুন দুনিয়া! ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করতে এখনই ক্লিক করুন। ♂️ boiinfo.com

এজেন্ট সিন্থিয়া : যে হানিট্র্যাপ অপারেশন মিত্রবাহিনীকে জিতিয়ে দিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

এজেন্ট সিন্থিয়া : যে হানিট্র্যাপ অপারেশন মিত্রবাহিনীকে জিতিয়ে দিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ!
4.8/5 - (6 votes)

১৯৪২ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়। সমরাঙ্গনের পাশাপাশি সমান তালে যুদ্ধ চলছে কূটনৈতিক অঙ্গনে, এসপিওনাজ জগতে, এমনকি বিনোদন জগতেও। মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতাসীন ফরাসি কর্তৃপক্ষ এবং নাৎসি বাহিনীর মধ্যকার উত্তেজনার পটভূমিতে গড়ে ওঠা প্রেমকাহিনী নিয়ে হলিউড নির্মাণ করছে “ক্যাসাব্লাঙ্কা” নামক চলচ্চিত্র।


জুনের ২১ তারিখে, অভিনেতা হামফ্রে বোগার্ট এবং অভিনেত্রী ইনগ্রিড বার্গম্যান যখন হলিউডের ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডিওতে ক্যাসাব্লাঙ্কা শহরের সেটিংয়ে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সে সময় ওয়াশিংটনের নাৎসি জার্মানি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ভিশি-ফ্রেঞ্চ সরকারের দূতাবাসের ভেতরে গোপন এক হানিট্র্যাপ অপারেশন পরিচালনা করছিলেন ব্রিটিশ-আমেরিকান স্পাই, বেটি প্যাক। আর তার অপারেশনের লক্ষ্য ছিল আসল ক্যাসাব্লাঙ্কা শহর জয় করা!


হিটলার ফ্রান্স আক্রমণ করেছিল ১৯৪০ সালে। ফ্রান্সের কিছু অংশ দখল করার পরপরই হিটলার সেখানে একটি অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করে। নতুন এই সরকারের কেন্দ্র ছিল ভিশি নামের একটি শহর, যার নামানুসারে ফ্রান্সের ঐ অংশটি ভিশি-ফ্রান্স নামে পরিচিতি পায়।


প্রথম দিকে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও ১৯৪২ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তারপরেও বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে তারা ভিশি সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভিশি সরকারের দূতাবাসে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছিল। ভিশি সরকারও এই সুযোগে দূতাবাস থেকে তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছিল।


সে সময় জার্মানির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার জন্য মিত্রবাহিনীর জন্য উত্তর আফ্রিকা জয় করা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অংশ এবং সমুদ্র তখন ছিল অক্ষশক্তির নিয়ন্ত্রণে। মিত্রবাহিনী যদি সরাসরি আফ্রিকা আক্রমণ করত, তাহলে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ছিল অবধারিত। ফলে বিনাযুদ্ধে আফ্রিকা জয়ের পথ ছিল একটাই – শত্রুর যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি সংক্রান্ত সকল তথ্য আগেই হাতিয়ে নেওয়া এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।


দূতাবাসের সাথে জার্মানির প্রতিদিন যেসব তথ্য আদান-প্রদান হতো, আমেরিকা এবং ব্রিটেন সহজেই সেগুলো ইন্টারসেপ্ট করে ফেলতে পারত। কিন্তু সমস্যা ছিল, এই বার্তাগুলো ছিল এনক্রিপ্টেড – দুর্বোধ্য কোডে রূপান্তরিত। যে কোডবুকে এসব বার্তার মর্ম উদ্ধার করার সংকেত লিপিবদ্ধ ছিল, সেটা হাত করতে না পারা পর্যন্ত এগুলো ছিল সম্পূর্ণ অর্থহীন।


মিত্রবাহিনী জানতে পারে, ফ্রেঞ্চ ন্যাভাল কোড ডিক্রিপ্ট করার সেই কোডবুক রাখা আছে ওয়াশিংটনের ভিশি-ফ্রেঞ্চ দূতাবাসের একটি ভল্টে। সেখান থেকে সেই কোডবুক উদ্ধার জন্যই মিত্রবাহিনী নিয়োগ করে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্সের স্পেশাল এজেন্ট এমি এলিজাবেথ ‘বেটি’ প্যাক থোর্পকে। তার অপারেশনাল কোডনেম দেওয়া হয় সিন্থিয়া।


ছোটকাল থেকেই বেটি প্যাক ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া। সবুজ চোখের অধিকারী বেটির জন্য আশেপাশের পুরুষরা ছিল পাগল। তিনি যখন হাইস্কুলে পড়তেন, তখন থেকেই এক ইতালিয়ান কূটনীতিক তাকে এক নজর দেখার জন্য, তার সাথে একটু কথা বলার জন্য স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বেটি নিজেও তার আকর্ষণের ক্ষমতা জানতেন। এবং সেই ছোটকাল থেকেই তিনি তার রূপ-যৌবনকে ব্যবহার করতেন কখনও নিছক আনন্দের জন্য, কখনও বিভিন্ন স্বার্থ হাসিলের জন্য।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেটি তার এই সম্মোহনী ক্ষমতাকে কাজে লাগান শত্রুপক্ষের উপর গোয়েন্দাগিরি করার কাজে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্সে যোগ দিয়ে তিনি পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান সহকারীর সাথে গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তার কাছ থেকে পোল্যান্ডের গোপন সব তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তুলে দেন এমআইসিক্সের হাতে।


বেটির পাঠানো তথ্য থেকেই ব্রিটেন জানতে পারে, পোলিশ গণিতবিদরা জার্মানির এনিগমা মেশিনের প্রাথমিক কোড ভাংতে সক্ষম হয়েছে। এই এনিগমা মেশিন দিয়েই জার্মানি যুদ্ধ সংক্রান্ত গোপন তথ্য আদান-প্রদান করত। এই তথ্য জানার পর ব্রিটিশরা পোল্যান্ডকে চাপ দেয় এবং তাদের গণিতবিদদেরকে ব্রিটিশ গণিতবিদদের সাথে কাজ করতে রাজি করায়।


ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং যে পরবর্তীতে এনিগমা মেশিনের কোড পুরোপুরি ভাংতে সক্ষম হন, তার পেছনে পোলিশ গণিতবিদদের দেওয়া তথ্য এবং সেই সূত্রে বেটি প্যাকের হানিট্র্যাপ অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। অনেক ইতিহাসবিদের অনুমান, টুরিংয়ের এনিগমা কোড ব্রেকিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেয়াদকাল দুই বছর কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল এবং দুই মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা করেছিল।


পোল্যান্ডের পর বেটি প্যাক ইতালিতে যান এবং সেখানে ইতালিয়ান এক কূটনীতিককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার কাছ থেকে ইতালিয়ান ন্যাভাল সিক্রেট হাতিয়ে নেন। বেটি প্যাকের এই সাফল্যের কারণে যখন ওয়াশিংটনের ভিশি-ফ্রেঞ্চ দূতাবাসের ভেতর থেকে কোডবুক উদ্ধার করার অপারেশনের পরিকল্পনা করা হয়, তখন এমআইসিক্স তার নামটাই প্রস্তাব করে।


ওয়াশিংটনে বেটি প্যাকের টার্গেট ছিল ভিশি দূতাবাসের প্রেস অ্যাটাশে, চার্লস ব্রুস। চার্লস যে হোটেলে থাকতেন, বেটিও সেই হোটেলে গিয়ে ওঠেন। চার্লস ছিলেন বিবাহিত। কিন্তু তারপরেও সমমনা এক আমেরিকান সাংবাদিকের ছদ্মবেশ ধরে পরিচয় শুরু করে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই চার্লসকে প্রেমের ফাঁদে আটকে ফেলেন বেটি। বেটির প্রেমে পাগল চার্লস নিজেই বেটির হাতে জার্মানদের বিভিন্ন গোপন তথ্য তুলে দিতে শুরু করেন।
এরকম সময় একদিন বেটি চার্লসকে জানান, এভাবে আর চলবে না। চার্লস যদি সত্যিই তাকে ভালোবাসে, তাহলে তাকে কোডবুক উদ্ধার করে দেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করতে হবে। প্রথমে রাজি না হলেও শীঘ্রই প্রেমের কাছে হার মানেন চার্লস। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাহায্য করতে রাজি হন তার গোপন প্রেমিকা, ব্রিটিশ-আমেরিকান হানিপট, বেটি প্যাককে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী চার্লস প্রথমে দূতাবাসের নাইট ওয়াচম্যানের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি তাকে বোঝান, বেটি হচ্ছে তার প্রেমিকা, এবং সেই প্রেমিকার সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর জন্য দূতাবাস ছাড়া তার অন্য কোনো জায়গা নেই। তিনি গার্ডকে ঘুষ দিয়ে তার গোপন অভিসারে সাহায্য করতে রাজি করান।


নাইট গার্ডের জ্ঞাতসারে বেটি নিয়ম করে দূতাবাসে গিয়ে চার্লসের রুমে তার সাথে দেখা করতে শুরু করেন। গার্ডকে শোনানোর জন্য তারা উত্তাল সশব্দ প্রেমে মত্ত হয়ে পড়েন। দরজার বাইরে থেকে তাদের মিলিত হওয়ার শব্দ শুনে গার্ড নিশ্চিন্ত হয়, তারা আসলেই প্রেমিক-প্রেমিকা। 😁😅
এরপরে আসে জুনের ১৯ তারিখ। সেদিন গার্ডের সাথে গল্প করার ছলে এক পর্যায়ে বেটি তার শ্যাম্পেনে এবং তার কুকুরের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। এরপর দুজনে অচেতন হয়ে পড়লে বেটি এবং চার্লস দূতাবাসের জানালা দিয়ে ভেতরে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেন “জর্জিয়া ক্র্যাকার” নামে পরিচিত এক অপরাধীকে, যে গোপন ভল্ট খুলতে পারদর্শী।


ভেতরে ঢুকেই কাজে লেগে পড়ে সেফ ক্র্যাকার। ওদিকে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে থাকেন বেটি এবং চার্লস। মিনিট পেরিয়ে ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ক্র্যাকার যখন ভল্ট খুলতে সক্ষম হয়, তখন ভোর চারটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি।


কোডবুক নিয়ে কপি করে আবার ফিরিয়ে দেওয়ার মতো সময় তখন আর নেই। অগত্যা একটা কাগজে কম্বিনেশন কী লিখে বেটির হাতে ধরিয়ে দিয়ে সেদিনের মতো প্রস্থান করে ক্র্যাকার।
দুই দিন পর, জুনের ২১ তারিখে বেটি এবং চার্লস আবার হাজির হন দূতাবাসে। এবার আর গার্ডকে অচেতন করা সম্ভব না। চার্লসের রুমে প্রবেশ করে প্রেমে মত্ত হয়ে ওঠেন তারা। এরপর যখন বুঝতে পারেন গার্ডের রাউন্ডের সময় শেষ হয়েছে, সে ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন বেটি নিজেই যান ভল্ট খুলতে। কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও ভল্ট খুলতে ব্যর্থ হন তিনি।


পরপর দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পর বেটির ডাক পড়ে নিউইয়র্কে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার জন্য ভল্ট খোলার প্রশিক্ষণের আয়োজন করে রেখেছেন। আর ঠিক দূতাবাসের ভল্টের মতোই একটা ভল্টের সামনে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে সেই জর্জিয়া ক্র্যাকার।


সেফ ক্র্যাকারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জুনের ২৪ তারিখ রাতের বেলা পুনরায় দূতাবাসে প্রবেশ করেন বেটি এবং চার্লস। কিন্তু অবাক হয়ে তারা লক্ষ্য করেন, নাইট গার্ড বা তার কুকুরটিকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।


খুশি হওয়ার পরিবর্তে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন বেটি। গার্ড কি তবে তাদেরকে সন্দেহ করছে? সে কি আড়ালে কোথাও লুকিয়ে আছে? যেই মুহূর্তে তারা ভল্ট খোলার উদ্যোগ নিবেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই কি সে এসে হাজির হবে তাদেরকে হাতে-নাতে ধরে ফেলার জন্য? তাদের কি মিশন বাতিল করে ফিরে যাওয়া উচিত?


বেটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। ফিরে যাবেন না তিনি। কোডবুক উদ্ধার করার জন্য সর্বশেষ চেষ্টাটাই করে দেখবেন তিনি।

চার্লসকে কিছু বুঝতে না দিয়ে একে একে নিজের জামা-কাপড় সব খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলতে শুরু করেন তিনি। চার্লস তাকে বাধা দিতে চেষ্টা করলেন – কী করছ তুমি? কেউ এসে যদি দেখে ফেলে? কী হবে তাহলে, ভেবেছ?


ততক্ষণে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গেছেন বেটি। মুক্তার একটা হার ছাড়া তার শরীরে আর কোনো আবরণ নেই। সেই অবস্থাতেই তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। ঠিক সেটাই ভেবেছি আমি। এবং সেজন্যই আমি কাপড় খুলেছি। যেন কেউ এসে পড়লে আমাকে এই অবস্থায় দেখতে পায়। আর তোমারও উচিত দেরি না করে জামা-কাপড় খুলতে শুরু করা।


চার্লস তখনও ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বেটিকে ভেঙেই বলতে হলো – আমরা এখানে কী করতে এসেছি? গোপনে প্রেম করতে। পৃথিবীর কেউ কি এরকম রাতের বেলা, গোপন, নির্জন স্থানে এরকম জামা-কাপড় পরে প্রেম করে? কেউ যদি এসে পড়ে, এবং এরকম জামা-কাপড় পরা অবস্থাতে আমাদেরকে দেখে ফেলে, তাহলেই তো বরং আমাদেরকে বেশি সন্দেহ করবে!


বেটির কথায় প্রভাবিত হলেন চার্লস। তিনি নিজেও কাপড় ছাড়তে শুরু করলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ তাদের রুমের দরজা ঝট করে খুলে গেল। নাইট গার্ডের হাতের শক্তিশালী টর্চের আলোয় পুরো অন্ধকার রুম আলোকিত হয়ে উঠল।
চাপাস্বরে চিৎকার করে শরীর ঢাকার ভান করতে শুরু করলেন বেটি। কিন্তু ইচ্ছে করেই তিনি এমনভাবে শরীর ঢাকার চেষ্টা করছিলেন, যেন গার্ড তার নগ্ন শরীরের পুরোটাই দেখতে পায়। কয়েক মুহূর্ত থমকে থাকার পর বিব্রত গার্ড নিজের ভুল বুঝতে পারে। মিছেমিছিই প্রেমিক-যুগলকে সন্দেহ করেছিল সে। পরপর কয়েকবার দুঃখ প্রকাশ করে রুম থেকে বেরিয়ে যায় সে।


কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বেটি এবং চার্লস যখন বুঝতে পারেন গার্ড আর ফিরে আসবে না, তখন কাজে লেগে পড়েন তারা। ভল্ট খুলে কোডবুক বের করে কপি করে এরপর যথাসময়ে তা আবার জায়গামতো রেখে দেন। আর এর মধ্য দিয়েই ভূমধ্যসাগরে অক্ষশক্তির যুদ্ধজাহাজ সংক্রান্ত সকল গোপন তথ্যের চাবি চলে যায় মিত্রবাহিনীর হাতে।


পাঁচ মাস পরের ঘটনা। ১৯৪২ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তায়
১ লাখ ৭ হাজার সৈন্য নিয়ে জেনারেল আইজেনহাওয়ার উত্তর আফ্রিকায় ল্যান্ড করেন এবং প্রায় বিনা বাধায় ক্যাসাব্লাঙ্কা, আলজিয়ার্স, তুনিস-সহ বিস্তীর্ণ ভূমি দখল করে নেন। যুদ্ধ না হওয়ায় বেঁচে যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন। আর রাতারাতি বিশাল এলাকা হারিয়ে পরাজয়ের দিকে আরও একটু এগিয়ে যায় নাৎসিবাহিনী।


সে সময় পত্রিকাগুলো লেখে, কীভাবে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই এত বিশাল এলাকা জয় করা সম্ভব হলো, সেটা একটা মিলিটারি সিক্রেট। বহু বছর পর জানা যায়, এজেন্ট সিন্থিয়ার হানিট্র্যাপ অপারেশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ন্যাভাল কোডই ছিল সেই সিক্রেট।
ছবিতে বামে বেটি প্যাক, ডানে জেনিফার লরেন্স। কারণ এই কাহিনী নিয়ে নির্মিত হবে এবং তাতে অভিনয় করবে জেনিফার লরেন্স।


লেখক : মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

Related Posts

Leave a comment

নতুন প্রকাশিত হওয়া আর্টিকেলগুলো

boiinfo.com Latest Articles

রূপকথন   –   বন্যা হোসেন

রূপকথন – বন্যা হোসেন

...

মা  –  আনিসুল হক

মা – আনিসুল হক

...

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

...

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

...

ফুল ফুটেছে বনে : আবদুল হক

ফুল ফুটেছে বনে : আবদুল হক

...

জমজম :যুবাইর আহমাদ তানঈম

জমজম :যুবাইর আহমাদ তানঈম

...

নারীবাদী বনাম নারীবাঁদি

...

কথুলহু    –   আসিফ রুডলফায

কথুলহু – আসিফ রুডলফায

...

তাফসীরে উসমানী

তাফসীরে উসমানী

...

And Then There Were None    –    Agatha Christie

And Then There Were None – Agatha Christie

...

বিষাদবাড়ি    –     Nahid Ahsan

বিষাদবাড়ি – Nahid Ahsan

...

ছায়ানগর

ছায়ানগর

...

মনে থাকবে    –     আরণ্যক বসু

মনে থাকবে – আরণ্যক বসু

...

And Then There Were None   –    Agatha Christie

And Then There Were None – Agatha Christie

...

পিনবল

পিনবল

...

লেজেন্ড    –    ম্যারি লু

লেজেন্ড – ম্যারি লু

...

প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন ⤵️