Hello,

একটি ফ্রি একাউন্ট খোলার মাধ্যমে বই প্রেমীদের দুনিয়ায় প্রবেস করুন..🌡️

Welcome Back,

অনুগ্রহ করে আপনার একাউন্টি লগইন করুন

Forgot Password,

আপনার পাসওয়ার্ড হারিয়েছেন? আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন. আপনি একটি লিঙ্ক পাবেন এবং ইমেলের মাধ্যমে একটি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করবেন।

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

বই প্রেমীদের দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

এমন হলে ব্যাপারটা কেমন হয়? বাংলা ভাষা-ভাষি সকল লেখক এবং পাঠকগণ একই যায়গায় থাকবে এবং একই প্লাটফর্মে তাদের বই সম্পর্কিত অনুভূতিগুলো শেয়ার করবে। যেখানে শুধুমাত্র বই সম্পর্কিত আলোচনা হবে। কখন কোন বই প্রকাশিত হয়েছে বা হবে তা মুহুর্তেই বই প্রেমিরা জানতে পারবে। প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই আপনি বই পড়তে অনেক ভালোবাসেন। আপনার লেখা বইয়ে রিভিউ গুলো খুবই সুন্দর, তাই পড়তে অনেক ভালো লাগে। বাংলাদেশে এই প্রথম পাঠকদের জন্য "বাংলাদেশ পাঠক ফোরাম" তৈরি করেছে boiinfo.com নামে চমৎকার একটি কমিউনিটি ওয়েবসাইট। এখানে আপনি আপনার বই সম্পর্কিত অনুভূতিগুলো ছড়িয়ে দিতে পারেন লাখো পাঠকের কাছে। এই ওয়েবসাইটের কি কি সুবিধা রয়েছে? এখানে খুব সহজেই অর্থাৎ শুধুমাত্র একটি ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ফ্রিতে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি হয়ে যেতে পারেন বইইনফো.কম এর একজন সম্মানিত লেখক। ১. থাকছে ফেসবুকের মত চমৎকার একটি প্রোফাইল। ২. একজন পাঠক অপরজনকে মেসেজ করার সুবিধা ৩. প্রিয়ো ক্যাটাগরি, লেখক, পাঠক, অথবা ট্যাগ ফলো দিয়ে রাখলেই ঐ সম্পর্কিত বইয়ের নটিফিকেসন। ৪. বই রিলেটেড বেশি বেশি আর্টিকেল লিখে এবং বই সম্পর্কিত প্রশ্ন করে জিতে নেয়া যাবে পয়েন্টস, স্পেশাল ব্যাজ এবং আকর্ষণীয় বই উপহার। ৫. যারা নিয়মিত পাঠক তাদের জন্য থাকছে ভেরিফাইড প্রোফাইল সহ আরো অনেক কিছু! বইইনফো.কম এর উদ্দেশ্য হলো বাংলা ভাষাভাষী সকল লেখক ও পাঠকদের কে একত্রিত করা। 💕লাইফ টাইম মেম্বার সিপ 💕কোন ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি নেই ♂️রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করুন মোট দুটি ধাপে। ১. সংক্ষিপ্ত তথ্য ও ইমেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ করুন। ২. ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। তাই দেরি না করে এখনি চলে আসুন বইয়ের দুনিয়ায়, আমরা তৈরি করতে চাই বই পাঠকের এক নতুন দুনিয়া! ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করতে এখনই ক্লিক করুন। ♂️ boiinfo.com

মাওলানা শায়খ উস্তাজ (ভাষারাজনীতি) – সাইফ সিরাজ

মাওলানা শায়খ উস্তাজ (ভাষারাজনীতি) – সাইফ সিরাজ
4.7/5 - (12 votes)

আমার দাদা মরহুম মাওলানা মোবারক আলী। বৃটিশ আমলের আদি দলিল-দস্তাবেজে তাঁর নামের আগে ‘শ্রী মৌলভী’ লেখা দেখেছি। এরপর পাকিস্তান হওয়ার কিছু আগে জমির দলিলে শুধু ‘মৌলভী’ লেখা দেখেছি। তাঁকে নিয়ে লেখা বায়োগ্রাফি অথবা তাঁর কাজ ও প্রজ্ঞার আলোচনায় সবাইকে ‘মাওলানা’ অথবা ‘মওলানা’ ব্যবহার করতে দেখেছি। বড় চাচা কিশোরগঞ্জের হয়বতনগর মাদরাসার শাইখুল হাদিস মরহুম মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের নামে জমির দলিল ছাড়া সবসময়ই মাওলানা ব্যবহার করতে দেখেছি।

সম্প্রতি ফেসবুক মারফত হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মরহুম মাওলানা আহমদ শফী’র নামেও তাঁর যৌবনে ‘মৌলভী’ ব্যবহার করতে দেখেছি। আমাদের শৈশবে যখন জায়গির থেকে পড়াশোনা করেছি, তখন একটু বড় হলে ‘মৌলিছাব’ আর একটু ছোট হলে ‘মুন্সি’ ডাকা হতো। মাদরাসার শিক্ষকদের ‘হুজুর’ ডাকা হতো। কামিল অথবা দাওরা পাশ না করা মক্তবের শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে ‘মৌলভী সাব’ ডাকতে শুনেছি। আমরা যখন কৈশোরে উত্তীর্ণ হয়েছি, তখন থেকে ‘মৌলভী’ ও ‘মুন্সী’ শব্দ দুটির ব্যবহার কমতে থাকে। ‘মাওলানা’ এবং ‘হুজুর’ এই দুই লকব শুরু হয়।

‘মৌলভী’ ও ‘মুন্সি’ না বলার পেছনে কোনো আন্দোলন অথবা ক্যাম্পেইন আমরা দেখিনি। মাদরাসা শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই শব্দ দুটির ব্যবহার কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এখন নেগেটিভ অর্থে কাউকে কাউকে ‘মোল্লা-মুন্সী’ অথবা ‘মৌলভী’ শব্দটির ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই নেগেটিভ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল ইস্যুই কার্যকর থাকে সবচেয়ে বেশি। সেক্যুলার হোক অথবা ধার্মিক; আলেম হোক অথবা বুদ্ধিজীবী; সাধারণত মানুষ হোক কিংবা পলিটিক্যাল কর্মী, সবাই সাধারণত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিতদের খোঁচা দিতে ‘মোল্লা-মৌলভী’ ও ‘মোল্লা-মুন্সী’ ব্যবহার করে থাকে। স্যাটায়ারসহ অন্য ইস্যুতেও ব্যবহার হয় কখনো। তবে ইদানীং পজিটিভ অর্থে এর প্রয়োগ দেখা যায় না বললেই চলে।

ধীরে ধীরে কওমি ও আলিয়া মাদরাসাগুলোতে ফারেগিন ছাত্রদের উদ্যোগে ‘স্মারক’ বা ‘স্মরণিকা’ প্রকাশ বাড়তে থাকে। সেইসব প্রকাশনায় দাওরা অথবা কামিল পাশ ছাত্রদের নামের সঙ্গে ‘মাওলানা’ ব্যবহার কমন হয়ে যায়। আম জনতাও এসবে নিজেদের আপনজনদের নাম দেখে দেখে ‘মাওলানা’ বলায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে মসজিদ মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলগুলোতে বক্তাদের নাম দেওয়ার প্রচলন ব্যাপকভাবে শুরু হয়। সেইসব পোস্টারে নামের আগে নানা ধরনের লকব দিলেও ‘মাওলানা’ নিপাতনে সিদ্ধের মতো কমন হয়ে যায়। ইসলামি রাজনৈতিক দলের আলেম নেতাদের নামের আগেও ‘মাওলানা’ ব্যবহার চলতে থাকে।

আমাদের জেনারেশন যখন গ্রামীণ পড়াশোনা শেষ করে শহুরে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করি; তখন কোনো একসময় আবিষ্কার করি, কেউ কেউ বলছেন ‘মাওলানা’ ব্যবহার করা অনুচিত। এর কিছুদিন পর কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন ‘মাওলানা’ ব্যবহার করা শিরক। ধীরে ধীরে দেখি কওমি ঘরানার বাইরের লোকজন প্রায়ই এইসব কথা বলাবলি করছেন। আমরাও তখন এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কারও নামের আগে কেউ ‘মাওলানা’ লিখলে অপছন্দ করতে শুরু করি। এক সন্ধ্যায় বন্ধুবর খাইরুল ইসলাম বললেন, ‘সাইফ, হুদাই মাইনষের কথায় লাফানো বন্ধ করো। চলো, একটু তাহকিক করি।’ প্রথমে আমরা গেলাম আনন্দমোহন কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন সহকারি অধ্যপক আইয়ূব নূরী স্যারের কাছে। এরপর গেলাম মাওলানা লাবীব আব্দুল্লাহ সাহেবের কাছে। দুইজনই মাওলানা শব্দের ভিন্ন ভিন্ন আভিধানিক অর্থ ও হাদিসে এর ব্যবহার দেখিয়ে দিলেন। এরপর অনলাইন মারফত সিলেট কাজীর বাজার মাদরাসার মুহাদ্দিস শাহ মমশাদ সাহেবের তাহকিক আমরা দেখতে পাই। তাদের তাহকিক ও আলোচনায় দেখি এই লকব ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যা ইসলামি শরিয়তে নেই। সমস্যা বলতে যেটা বুঝতে পারি, তা হলো ঘরানাগত পলিটিক্স। আর ভাষার পরম্পরা, ভাষার ডাইমেনশন, ভেরিয়েশন অথবা ভাষিক সৌকর্য সম্পর্কিত পাঠকে অকারণ মনে করার কারণ।

ইতোমধ্যেই টেলিভিশনে ইসলামি আলোচনার যুগ চলে আসে। চলে আসে ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে এইসব ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার বাড়তে থাকে। তখন আবার ‘মাওলানা’ লকব ব্যবহার নিয়ে কথা চলে। ফলে, শায়খ/শায়েখ/শাইখ শব্দের ব্যবহার আরও বাড়ে। হালে তো ‘উস্তাজ’ শব্দেরও দিন চলছে।

‘মাওলানা’ লকবের সঙ্গে ‘হুজুর’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও আপত্তি করতে কাউকে কাউকে দেখা যায়। তবে এসব যেহেতু জ্ঞানীয় তর্ক ও আলাপ। তাই এই আলাপগুলো চলা ও চলতে থাকা জরুরি। কিন্তু এসব আলাপের সঙ্গে ‘নাকের সাথে নরুণ’-এর মতো ঘৃণা, হিংসা, নিন্দা, বিভাজন ও প্রান্তিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়। তখন এগুলো ইলমি আলোচনা না হয়ে নোংরামি ও গোত্রবাদের মতো দলবাদ মুখ্য হয়ে ওঠে।

আজকে লেখায় ‘মাওলানা’ ও ‘হুজুর’ শব্দের আরবি লুগাতের (ভাষাতাত্ত্বিক) তাহকিক ও আলোচনা উদ্দেশ্য নয়। ইতোমধ্যেই পাঠক ওয়াজ মাহফিলের বয়ান, ফেসবুকের লেখা, ইউটিউবের কন্টেন্টে এই শব্দগুলোর আলোচনা ও তাহকিক জেনেছেন। পক্ষ বিপক্ষের কথা শুনেছেন। এই লেখার উদ্দেশ্যও আরবি ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা না। বরং এই লেখায় বাংলা ভাষার দিক থেকে শব্দগুলোর ব্যবহার নিয়ে কথা বলব।

বাংলা ব্যাকরণের শব্দের আলোচনায় আছে ‘রূঢ়ি’ শব্দের আলোচনা। আর মানতিক শাস্ত্রের আলোচনায় আছে ‘মানকুলে উরুফি’। কোনো ভাষার কোনো শব্দের ব্যবহারকে শিরক বা হারাম বলার আগে অবশ্যই একজন দাঈকে ভাষাতাত্ত্বিক দিকটা বিবেচনায় রাখা জরুরি। যদি ভাষা ব্যবহারের নীতিমালা, শব্দের আত্মীকরণ-নীতিমালা এবং শব্দের অর্থ পরিবর্তনের ধারা সম্পর্ক ধারণা থাকে, তাহলে অনেক বিষয়ই সহজ হয়ে যায়। ভাষা এমন এক গতিশীল নদীর মতো; নদী যেমন ময়লা পানিকে স্রোতের টানে নিতে নিতে পরিষ্কার পানিতে রূপান্তরিত করে; আবার পরিষ্কার পানিকে কখনো তার স্রোতের টানে ময়লা পানিতে রূপান্তরিত করে, তেমনই ভাষা তার চলার পথে সদার্থের শব্দকে কদার্থে রূপান্তরিত করে আবার কদার্থকে সদার্থে পরিবর্তন করে। যেমন: ‘কারসাজি’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো করিৎকর্মা। কাজকে যথাযথভাবে সম্পাদন করতে পারাকে ‘কারসাজি’ বলা হতো। এখন এই শব্দের অর্থ হলো টেম্পারিং বা প্রতারণা। সদার্থ থেকে কদার্থে বদলে গেছে। ‘মীর জাফর’ নামটি সুন্দর অর্থবোধক; কিন্তু ঘটনা ও মানুষের ব্যবহারের কারণে এটা এখন কদার্থ বা মন্দার্থে ব্যবহার হচ্ছে—‘মীর জাফর’ মানেই মুনাফিক, বিশ্বাসঘাতক। অনুরূপভাবে ‘পঙ্কে জন্মে যে’ পঙ্কজ। কাদায় জন্মানো মূল্যহীন কিছু মন্দার্থ থেকে ‘পঙ্কজ’ মানুষের ব্যবহারের কারণে পদ্মফুল সুন্দরার্থে বদলে গেছে।

‘মাওলানা’ শব্দটিও বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী রূঢ়ি ও মানতিক শাস্ত্র অনুযায়ী মনকুলে উরুফি। যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আর চলতি অর্থ এক নয়, তাকে বলে রূঢ়ি শব্দ। আর গণমানুষের দীর্ঘ ব্যবহারের কারণে যে শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়ে নতুন অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং পূর্বের অর্থে ফিরে যায় না অথবা পূর্বের অর্থে আর ব্যবহৃত হয় না, তাকে ‘মানকুলে উরুফি’ বলে। সেই দিক থেকে ‘মাওলানা’ শব্দের ব্যবহারে কোনো ধরনের শরয়ি বাধা থাকে না।

এবার আসি ‘মাওলানা’ একটি বাক্য হয়ে কীভাবে একটি শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়! ‘মাওলা’ বিশেষ্য ও ‘না’ সর্বনাম মিলে ‘মাওলানা’ শব্দটি গঠিত। আরবি ভাষায় এটি একটি পূর্ণ বাক্য। আর বাংলা ভাষায় এটি একটি শব্দ। যেহেতু আরবি ভাষায় শব্দটি একটি পূর্ণ বাক্য; সেহেতু বাংলায় এর অনুবাদ হবে বাক্য হিসেবে। ব্যবহারও হবে বাক্য হিসেবে। কিন্তু বাংলা ভাষা একে গ্রহণ করেছে একটি শব্দ হিসেবে। বিশেষণ হিসেবে। ব্যক্তির বিশেষ গুণ হিসেবে। ফলে আরবি বাক্যের অর্থ আর এখানে কার্যকর নেই। সেই হিসেবে এটি এখন বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ। এর অর্থ হবে ‘কামিল’ অথবা ‘তাকমিল’ পাশ ব্যক্তির উপাধি। এই বাক্যের আক্ষরিক অর্থের কোনো প্রয়োগ আর বাংলাতে অবশিষ্ট নেই। ভাষা প্রয়োগবিধি অনুযায়ী এই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ জানা পাণ্ডিত্যের জন্য কল্যাণকর হলেও ব্যবহারের জন্য বিপজ্জনক। বিশৃঙ্খলাজনক। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দলান্ধতা ছাড়া কিছুই নয়।

একটা উধাধি। একটা একাডেমিক সম্মান। ব্যক্তির আলাদা একটা পরিচয়। আরবি ভাষার বিশ্লেষণ ও ব্যবহারের জায়েজ হওয়াকে যদি আপনি গোঁজামিল ভেবে এড়ি যেতে চান, তাহলে অন্তত বাংলা ভাষার একটা শব্দ হিসেবে এর ব্যবহারকে অপছন্দ করতে পারেন। আপনি ব্যবহার না করতে পারেন; কিন্তু একে শিরক বলতে পারেন না। একটি শব্দকে কেন্দ্র করে বিশাল একটি ইলমি সিলসিলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন না। এই প্রান্তিকতা উম্মতের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।

এবার আসি হুজুর শব্দের আলোচনায়। ঢাকা আলিয়াতে তখন ফাজিল পরীক্ষা দিই আমি। দুই হাজার দুই সাল। একদিন পরীক্ষা দিয়ে বের হতেই দুই বন্ধু আলাপ শুরু করল হাঁটতে হাঁটতে। আমি যেহেতু নতুন পরিচিত; তাদের কারও চিন্তা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না।

তারা আমাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমরা ‘খারেজিরা’ (এই শব্দ নিয়ে সামনে আলোচনা আসবে। ইনশাআল্লাহ।) কি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলো না?” আমি বললাম, ‘বলি তো’! তারা বলল, “হুজুর মানে যিনি হাজির। তো নবীজি তোমাদের সামনে হাজির না থাকলে তোমরা ‘হুজুর’ বলো কীভাবে? আমরা শুধু ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ বলে কেয়াম করলেই দোষ! নবীজি হাজির-নাজির বললেই দোষ! আর তোমাদের কোনো দোষ নাই!” এরপর দীর্ঘ গালাগাল। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা ওদের মতো বাস ধরে চলে গেল।

এরপর দীর্ঘদিন এসব বিষয়ে তেমন আলাপ আর শুনিনি। সম্প্রতি আবার কেউ কেউ হুজুর ডাকা নিয়ে আলাপ তুলছেন। কেউ নবীজিকে ‘হুজুর’ ডাকা যাবে না; আর কেউ উস্তাজকে ‘হুজুর’ ডাকা যাবে না। বাংলা ভাষায় দীর্ঘদিন ধরে এর যে ব্যবহার চলে আসছে, সেই হিসেবে এটি বাংলার আত্মীকৃত শব্দ। বাংলার শব্দ গ্রহণ আর অর্থ বদলের প্রক্রিয়ায় ‘হুজুর’ শব্দের ব্যবহারে কোনো সমস্যা আমি দেখি না। বাকি থাকল নবীজির শানে ‘হুজুর’ ব্যবহার। অন্যত্র এই আলোচনা বিস্তারিত করব ইনশাআল্লাহ।

এবার আসি ‘শায়খ/শায়েখ/শাইখ’ ও ‘উস্তাজ’ ব্যবহারের প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের জ্ঞানী প্রজ্ঞাবান লোকজনের নামের সঙ্গে এই শব্দ ব্যবহারে কোনো রকম সমস্যা, সংকট ও আপত্তি আসলে নেই। আপত্তি নেই ‘উস্তাজ’ শব্দের ব্যবহারেও। কিন্তু প্রশ্ন ও আপত্তি তখনই দাঁড়ায়, যখন ‘শায়খ/শায়েখ/শাইখ’-কে ‘মাওলানা’ শব্দের রিপ্লেস হিসেবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়। চেষ্টা করা হয় একটা ঘৃণারেখা তৈরির। চেষ্টা করা হয় এই কথা বোঝানোর যে, ‘মাওলানা’ ব্যবহারকারীরা ‘ইনফেরিয়র’ আর ‘শায়খ’ ব্যবহারকারীরা ‘সুপিরিয়র’। বোঝানো হয় মাওলানা ব্যবহার হলো এই দেশীয় অন্ত্যজ কালচার; আর শায়খ ব্যবহার আরবীয় কুলীন কালচার। সংটক ঘনীভূত তখনই হয়, যখন মাওলানাকে শিরক বলে শায়খকে অনুপ্রবেশ করাতে চাওয়া হয়।

তেমনিভাবে ‘উস্তাজ’ বলায়ও কোনো সমস্যা নেই। যদি প্রচলিত হুজুর, মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দিস পরিভাষাগুলো ব্যবহার করতে হীনম্মন্যতাজাত সংকট না থাকে। এই অঞ্চলের মানুষ উস্তাদজি ব্যবহার করেন অনেক আগে থেকেই। ফলে এই ব্যবহার সমস্যাজনক নয়। কিন্তু এর উদ্দেশ্য যদি হয় হুজুর ও মাওলানার বিলুপ্তি, তাহলে এটা একধরনের ভাষিক উপনিবেশ আচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

কুরআনুল কারিমে শায়খ শব্দটি চার জায়গায় ‘বৃদ্ধ’ অর্থে এসেছে। আমার সাধারণ জানায় আরবরা একে তিনটি অর্থে ব্যবহার করে। বয়সের যাই হোক, উচ্চ শিক্ষিত মানুষের বেলায়। বয়স্ক বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। নেতৃস্থানীয় বা মোড়ল বা মাতব্বর স্থানীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। সুতরাং এই শব্দ ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদানুযায়ী আমরা ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু আমাদের একাডেমিক প্রাপ্ত সম্মানের বদলে ‘শায়খ/শায়েখ/শাইখ’ ব্যবহার করতে পারি না। যদি মনকুলে উরুফি হিসেবে একে আপনি প্রতিষ্ঠিত করতেই চান, তাহলে পুরো উপমহাদেশীয় কালচারকে বদলে দিয়ে তারপরেই ব্যবহার করতে হবে। কারণ, ভারতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ এখনো ‘মাওলানা’ লেখে। পাকিস্তানের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিন্নুরি টাউন ‘মাওলানা’ লেখে। নেপালের আলেমরাও ‘মাওলানা’ লেখে। বাংলাদেশের কওমি আলিয়া সকল মাদরাসাই এখনো ‘মাওলানা’ লেখে।

এই লেখা বড় হচ্ছে। ফলে আজকের কিস্তি এখানেই শেষ করছি। এই সংক্রান্ত বাদ পড়া আরও যা আছে, সামনের লেখাগুলোতে চেষ্টা করব আনতে।

প্রিয় পাঠক, আপনাদের আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা এই সিরিজটাকে সমৃদ্ধ করবে। আশা করি আপনারা প্রাণ খুলে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা মন্তব্যের ঘরে লিখবেন, ইনশাআল্লাহ।

সাইফ সিরাজ
কবি ও বিশ্লেষক

Related Posts

Leave a comment

নতুন প্রকাশিত হওয়া আর্টিকেলগুলো

boiinfo.com Latest Articles

রূপকথন   –   বন্যা হোসেন

রূপকথন – বন্যা হোসেন

...

মা  –  আনিসুল হক

মা – আনিসুল হক

...

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

...

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

প্রিয় মায়াবতীর মায়া

...

ফুল ফুটেছে বনে : আবদুল হক

ফুল ফুটেছে বনে : আবদুল হক

...

জমজম :যুবাইর আহমাদ তানঈম

জমজম :যুবাইর আহমাদ তানঈম

...

নারীবাদী বনাম নারীবাঁদি

...

কথুলহু    –   আসিফ রুডলফায

কথুলহু – আসিফ রুডলফায

...

তাফসীরে উসমানী

তাফসীরে উসমানী

...

And Then There Were None    –    Agatha Christie

And Then There Were None – Agatha Christie

...

বিষাদবাড়ি    –     Nahid Ahsan

বিষাদবাড়ি – Nahid Ahsan

...

ছায়ানগর

ছায়ানগর

...

মনে থাকবে    –     আরণ্যক বসু

মনে থাকবে – আরণ্যক বসু

...

And Then There Were None   –    Agatha Christie

And Then There Were None – Agatha Christie

...

পিনবল

পিনবল

...

লেজেন্ড    –    ম্যারি লু

লেজেন্ড – ম্যারি লু

...

প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন ⤵️